How many posts on Facebook, is it possible to retain the desired followers?

দয়াল বাবা কলা খাবা গাছ লাগায়ে খাও; পরের গাছের পানে কেন মিটমিটাইয়া চাও!!!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
কী ভাবছেন! টাইটেলটি কেন এমন? জ্বী না আজকের বিষয়বস্তু হলঃ
প্রসঙ্গ – ফেসবুক পোস্ট।। ফেসবুকে কতগুলো পোস্ট করলে বা কী পরিমাণে পোস্ট করা হলে কাঙ্খিত ফলোয়ার ধরে রাখা সম্ভব?
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
কয়েকটি বাস্তব ঘটনার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থাটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হলোঃ
ঘটনা-১
কোরবানির পশু কেনার উদ্দেশ্যে গোলাপগঞ্জ হাটে রওনা হবো। যাত্রা শুরুর প্রারম্ভে ফেসবুকের নিউজ ফিডে একটি পোস্টে দেখা গেল এলাকার একজন সাংবাদিক ভাই লিখেছেন করোনার কারণে গোলাপগঞ্জ হাটে পশু বেচাকেনা বন্ধ। তো ঠিক আছে; জামা-কাপড় ছেড়ে ড্রয়িংরুমে রক্ষিত পেপার পড়া শুরু করলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি গরুর ভ্যানে করে মানুষজন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে হাটে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। সন্দেহ হওয়াতে গোলাপগঞ্জের হাটের কাছে বাড়ি এমন একজনকে ফোন করে জানতে চাওয়া হলো হাটের কী অবস্থা? উত্তরে ঐ ব্যক্তি বললেন হাট যথানিয়মে চলছে।
ফেসবুকের ঐ পোস্টে কমেন্টে জানতে চাওয়া হলো পশুর হাট তো চলমান! আপনি কেন এমন পোস্ট শেয়ার করেছেন? উনি সগৌরবে কমেন্টের উত্তরে জানালেন পোস্টটি কয়েক দিন আগের। আজকে পত্রিকার ঐ লিঙ্কটি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়েছে মাত্র। পোস্ট এ পুনরায় গিয়ে দেখা গেল যে উক্ত পোস্টটি পাঁচ দিন আগেই একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। একজন স্বনামধন্য (অনেক ভাই এ শব্দটিকে সুনামধন্য লিখেন) সাংবাদিক ভাই আজকে ঐ পোস্টের লিঙ্কটি শেয়ার করেছেন। যার টাইটেল ছিলো “করোনার কারণে গোলাপগঞ্জ হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা বন্ধ”।
প্রিয় বন্ধুরা, হাটের দিন এবং হাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখা হয়েছে। তথাপি এ ধরণের পোস্ট শেয়ার করা হলে আপনাদেরকে যাঁরা ফলো করবেন তাঁরা আমার মতো নির্ঘাত বিভ্রান্ত হবেন এবং বাধ্য হবেন আপনাকে আনফলো বা আনফ্রেন্ড করতে।
ঘটনা-২
আমার ফ্রেন্ডলিস্টের কতিপয় মুরুব্বি গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ করে হাদিস শেয়ার করে চলেছেন। কিন্তু মজার বিষয়টি হলো কোনো লাইক বা কমেন্টস হয় না। তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, কোনো রিচ নেই বা কোনো ব্যক্তিই উনার লেখা বা শেয়ার করা বিষয়টি পাঠ করেন না। কিন্তু তিনি নিজেকে একজন বিজ্ঞ ইসলামের প্রচারকারী ভেবে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। উনার পোস্ট উনি নিজে ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভুলেও দেখেন না।
ঘটনা-৩
আমার ফ্রেন্ডলিস্টের আরো কতিপয় বন্ধু রীতিমতো দৈনিক ১০-১৫টি করে করোনার আপডেট প্রচার করে থাকেন। উনাদের যেন দুশ্চিন্তার কোনো অন্ত নেই। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে – আমার মনে হয় তাঁরা নিজ কাজকর্ম বাদ দিয়ে এটিকেই প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছেন। লাইক, কমেন্টস বা রিচ থাক বা না থাক “কুছ পরোয়া নেহী।”
ঘটনা-৪
আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আরো বেশ কিছু সিনিয়র সিটিজেন রয়েছেন। উনাদের বক্তব্য ইসলামীক কথাবার্তা বা নীতিকথা লিখলে মানুষ পোস্টে কোনো লাইক বা কমেন্ট করে না। তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি আজ হতে আট দশ বছর আগে আপনারা এ ধরণের কোনো পোস্ট দেননি। আপনাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের আদর্শ, চালচলন ও সততা সম্বন্ধে অনেকেই অবগত আছেন। একটি নির্দিষ্ট বয়স সীমার পরে হঠাৎ আপনাদের মানসিকতার এই আমূল পরিবর্তনে অনেকেই বিস্মিত হন। সংগত কারণেই কিছু কিছু বন্ধুকে আপনি প্রাইভেসি দিয়ে আপনার আগামী পোস্টগুলোর বাইরে রাখতে সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছেন। একবার প্রাইভেসিটা পাবলিক করে পোস্ট দেন – আমি আশাবাদী উত্তর ঠিকই পেয়ে যাবেন।
এখন আসি ব্যাখ্যায়:
~~~~~~~~~~~~
সুপ্রিয় বন্ধুগণ উপরোক্ত ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই যে, কোনো পোস্ট রিচ না করার পেছনে অনেকগুলো সমন্বিত কারণ রয়েছে। যেগুলো হলো:
(ক) পোস্ট এর মাধ্যমে কাউকে বিভ্রান্তিতে ফেলা।
(খ) অতিমাত্রায় পোস্ট করা।
(গ) পুনরাবৃত্তিমূলক পোস্ট করা।
(ঘ) নিজেকে বুদ্ধিমান এবং ধার্মিক পক্ষান্তরে অন্যদের বোকা এবং অধার্মিক এই ধ্যানধারণা থেকে কোনো পোস্ট করা।
উপরোক্ত ০৪ কিসিমের মানুষগুলোর প্রোফাইলগুলো হলো উনাদের ব্যক্তিগত প্রোফাইল। রিচ করলেই কি আর না করলেই বা কি। ফেসবুক আইডি থাকলেই কি আর না থাকলেই বা কি এসে যায়?
কিন্তু আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটার হন কিংবা আপনি যদি ফেসবুক মার্কেটার হন; আর এটি যদি আপনার বিজনেস প্রোফাইল হয় এবং আপনাকে যদি এখান থেকে কাস্টমার জেনারেট করতে হয়। তাহলে অবশ্যই আপনাকে উপরোক্ত ঘটনাবলীর ভুলগুলো পরিহার করে চলতে হবে।
ফেসবুকে রিয়্যাক্ট, কমেন্টস বা রিচ বা ভিজিটর – যাই বলেন না কেন ধরে রাখার উপায় কী?
(১) দৈনিক ০১ টি পোস্ট দেয়া যায়; তবে ০২ টির অধিক অবশ্যই নয়। এর বেশি পোস্ট দেয়া হলে মানুষ আনফলো বা আনফ্রেন্ড করে রাখবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঠিক যেমনটি আমি করে রেখেছি।
(২) বিজনেস পেজ হলে সপ্তাহে কমপক্ষে ০৩ টি পোস্ট দেয়া উত্তম। মাসে কমপক্ষে ১৩ টি পোস্ট করা উচিত।
(৩) নতুন নতুন লেখা প্রকাশ ও প্রচার করা আবশ্যক।
(৪) নিত্য নতুন নলেজ শেয়ার করা উচিত।
(৫) সমসাময়িক ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা পোস্ট করা আবশ্যক।
(৬) কপিপেস্ট বা শেয়ার পোস্ট যতটা সম্ভব পরিহার করা সমীচীন। কারণ এগুলো নিউজ ফিডের পরিবেশ নষ্ট করে এবং মানুষের বিরক্তির উদ্রেগ ঘটায়। ফলে আপনি আনফলো হতে পারেন।
(৭) কোনো কারণে কপিপেস্ট পোস্ট করা হলে মূল লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। নতুবা আপনার কর্মকাণ্ড চোরের অনুরূপ গণ্য হবে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আবার বলতে হয় – দয়াল বাবা কলা খাবা গাছ লাগায়ে খাও; পরের গাছের পানে কেন মিটমিটাইয়া চাও!!!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বি: দ্র: এই পোস্টের মাধ্যমে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়নি। এটি মূলত একটি গঠনমূলক সমালোচনা মাত্র। বুঝলে ভুজপাতা, না বুঝলে তেজপাতা (জ্ঞানীদের জ্ঞান বাড়াবে)।
আমি পোস্ট দিতে ভয় পাই; কারণ – একটি পোস্ট দিলে লাইক, কমেন্টস এর চেয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে অনেক বেশি।
অযথা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো কাম্য নয়। এটিই আমার বিজনেস প্রোফাইল। ফলে, সাধারণ মানুষ মজা একটু কমই পাবেন। খুব বেশি ভালোবেসে থাকলে ফলো করবেন প্লিজ – আপত্তি নেই। লাইক, কমেন্টস ও শেয়ারের অপশন সবার জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে।
ধন্যবাদ ও শুভ কামনা সকলের জন্য।
লেখক – এনামুল হক
ডিজিটাল মার্কেটার, আপওয়ার্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.
You need to agree with the terms to proceed

Menu